
জাপানকে একসময় বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে দেখা হতো। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস বলছে, আগামী বছর দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির র্যাঙ্কিংয়ে আরও এক ধাপ নিচে নেমে যেতে পারে। IMF-এর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে জাপান ২০২৭ সালে বিশ্বের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
কেন পিছিয়ে পড়ছে জাপান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।
প্রথমত, জাপানের জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে। কাজের উপযুক্ত বয়সের মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, জাপানি ইয়েন দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের হিসাবে জাপানের অর্থনীতির আকার তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।
তৃতীয়ত, ভারতসহ এশিয়ার কিছু উদীয়মান অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের বড় জনসংখ্যা, প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
প্রবাসীদের জন্য এর অর্থ কী?
জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য এই পরিবর্তন সরাসরি বড় কোনো সংকট না হলেও, এর প্রভাব বিভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো খরচ কমানোর চেষ্টা করতে পারে।
বিদেশি কর্মীর চাহিদা কিছু খাতে বাড়তেও পারে, কারণ শ্রমিক সংকট এখনও বড় সমস্যা।
জীবনের ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।
জাপান কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স এবং বিদেশি শ্রমশক্তির কার্যকর ব্যবহার জাপানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে জনসংখ্যা হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে।
শেষ কথা
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে সম্ভাব্য ষষ্ঠ স্থানে নেমে আসার আলোচনা জাপানে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও জাপান এখনও বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ, তবুও পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
NipponEye Daily News

Leave a Reply